স্বাস্থ্য বিষয়ক

টেস্টোস্টেরন কী, শরীরে কীভাবে কাজ করে আর কী করলে স্বাভাবিক থাকে

পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের কাজ, কমার কারণ, ঘুম-ওজন-ব্যায়ামের ভূমিকা, আর "বুস্টার" নিয়ে সত্যি কথা।

এই লেখায় যা আছে

টেস্টোস্টেরন একটি হরমোন। পুরুষের শরীরে এটি প্রধানত অণ্ডকোষে তৈরি হয়, নারীর শরীরেও খুব অল্প পরিমাণে তৈরি হয় (ডিম্বাশয় ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে)। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্রন্থি সংকেত পাঠিয়ে এর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।

শরীরে এর কাজ

  • পেশি ও হাড় মজবুত রাখা
  • যৌন আকাঙ্ক্ষা ও শুক্রাণু তৈরি
  • লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য
  • শরীরের চর্বি কোথায় জমবে তা নির্ধারণে ভূমিকা
  • মেজাজ ও কাজের শক্তিতে প্রভাব

স্বাভাবিকভাবে কী হয়

সকালে মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে। ৩০-৪০ বছরের পর বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে ধীরে ধীরে কমে, এটা বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ।

কোন অভ্যাস মাত্রা কমাতে পারে

  1. কম ঘুম। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ সুস্থ পুরুষরা এক সপ্তাহ রাতে ৫ ঘণ্টা ঘুমালে দিনের টেস্টোস্টেরন উল্লেখযোগ্য কমে যায়।
  2. অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চর্বি। ওজন কমালে মাত্রা কিছুটা বাড়তে দেখা যায়।
  3. একদম ব্যায়াম না করা, আবার অতিরিক্ত ও বিশ্রামহীন ভারী ব্যায়ামও।
  4. অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান।
  5. দীর্ঘ মানসিক চাপ। স্ট্রেসে কর্টিসল বাড়ে, যা টেস্টোস্টেরনের সাথে উল্টো সম্পর্কে চলে।
  6. কিছু রোগ ও ওষুধ, যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ব্যথার ওষুধ।

স্বাভাবিক রাখতে কী করবেন

  • রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমান।
  • সপ্তাহে ২-৩ দিন পেশির ব্যায়াম (স্কোয়াট, পুশ-আপ, ভারী কিছু তোলা) আর হাঁটা।
  • ওজন স্বাভাবিক সীমায় রাখুন। আপনার উচ্চতায় কত ওজন ঠিক দেখুন।
  • সুষম খাবার: ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, শাক-সবজি। জিংক বা ভিটামিন ডি-র অভাব থাকলে সেটা ডাক্তারের পরামর্শে পূরণ করুন।
  • মদ্যপান ও ধূমপান এড়ান।

“টেস্টোস্টেরন বুস্টার” নিয়ে সতর্কতা

বাজারের বেশিরভাগ বুস্টার সাপ্লিমেন্টের পেছনে ভালো প্রমাণ নেই। মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে এগুলো কিছু বাড়ায় না। আর অ্যানাবলিক স্টেরয়েড বা বাইরে থেকে হরমোন নিলে শরীর নিজের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, অণ্ডকোষ ছোট হয়, সন্তান ধারণক্ষমতা কমে এবং হৃদরোগ ও লিভারের ঝুঁকি বাড়ে। ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব নেবেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা অনেক কমে যাওয়া, পেশি কমে যাওয়া বা মন খারাপ থাকে, ডাক্তারকে জানান। নিশ্চিত হতে সাধারণত সকালের দিকে দুইবার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এসব লক্ষণের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, তাই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

এটি সাধারণ তথ্য, ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো রোগ, গর্ভাবস্থা বা ওষুধ চললে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

এটি সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো রোগ, গর্ভাবস্থা বা ওষুধ চললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

AM
লিখেছেন Ahmad Muztaba Zaman

AiMuztaba-র প্রতিষ্ঠাতা। দেশি খাবার মেপে দেখি আর সহজ দৈনিক রুটিন বানাই।

কমিউনিটি

AiMuztaba পরিবারে যোগ দিন

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

মেনু
আজ কী খাব? ঘরোয়া সমাধান আমার জন্য কী? ৩০ দিনের চ্যালেঞ্জ আজকের টিপ ক্যালরি ক্যালকুলেটর সাপ্তাহিক মেনু উপবাস টাইমার অভ্যাস ট্র্যাকার খাবার তুলনা শরীরের ভেতরটা ভেজিটেরিয়ান গাইড খাবারের বিকল্প ঘরোয়া ব্যায়াম কোন খাবারে কী আছে কতক্ষণ হাঁটব? বয়স অনুযায়ী চার্ট উচ্চতাওজন ব্লগ রিলাক্স ডাউনলোড কমিউনিটি আমাদের কথা খুঁজুন
আমার রুটিন বানাও