চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য “যোগ করা চিনি” কমানো। আস্ত ফল, দুধ-দই (চিনি ছাড়া), সবজি, ডাল স্বাভাবিকভাবে খাওয়া যাবে।
চিনি কমালে কী হতে পারে
- প্রথম ১-২ সপ্তাহ: মিষ্টির তীব্র ইচ্ছা, মাথাব্যথা বা খিটখিটে ভাব হতে পারে (অনেকে এটা বলেন, এ নিয়ে গবেষণা সীমিত)।
- ২-৪ সপ্তাহে: স্বাদের অভ্যাস বদলায়। আগে যা সাধারণ লাগত তা বেশি মিষ্টি লাগে, ফলকে আরও মিষ্টি লাগে।
- ক্যালরি কমলে ওজন ধীরে কমতে পারে, বিশেষ করে মিষ্টি পানীয় বাদ দিলে।
- দাঁতের জন্য ভালো, ত্বক ও ঘুমেও কারও কারও ভালো লাগে।
আগে জানুন
ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন নিলে হঠাৎ খাবার বদলানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। ডাক্তারকে জানিয়ে শুরু করুন। গর্ভবতী, বাচ্চা বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমস্যা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ নেবেন না।
৩০ দিনের পরিকল্পনা
- প্রস্তুতি (১-৩ দিন): কী কী চিনি খান লিখে ফেলুন: চায়ে কত চামচ, কোল্ড ড্রিংক, মিষ্টি, বিস্কুট।
- সপ্তাহ ১: পানীয়। কোল্ড ড্রিংক, জুস, এনার্জি ড্রিংক বন্ধ। চায়ে চিনি আধা করে কমান।
- সপ্তাহ ২: মিষ্টি নাস্তা। বিস্কুট, চকলেট, মিষ্টি বদলে ফল, ভাজা ছোলা, মুড়ি-বাদাম। খাবারের বিকল্প দেখুন।
- সপ্তাহ ৩: প্যাকেটজাত খাবার। লেবেল পড়ুন, সস, কর্নফ্লেক্স, ফ্লেভার্ড দই বাদ।
- সপ্তাহ ৪: চা-কফিতে চিনি প্রায় নেই, মিষ্টি খাওয়া শুধু বিশেষ উপলক্ষে।
ইচ্ছা সামলাতে
- মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, এক গ্লাস পানি খান বা হাঁটুন। ইচ্ছা প্রায়ই কেটে যায়।
- প্রতি বেলায় প্রোটিন ও আঁশ রাখুন, তাহলে খিদে কম পায়।
- ঠিকমতো ঘুমান। কম ঘুমে মিষ্টির লোভ বাড়ে।
- বাড়িতে চিনির খাবার জমিয়ে রাখবেন না।
- একদিন ভুল হলে হাল ছাড়বেন না। পরের বেলা থেকে আবার শুরু করুন।
চ্যালেঞ্জের পর
পুরোপুরি চিরকাল বাদ দিতে হবে এমন নয়। মাঝেসাঝে পছন্দের মিষ্টি খান, কিন্তু রোজের অভ্যাস না করে। লক্ষ্য হলো চিনির ওপর নির্ভরতা কমানো।
এটি সাধারণ তথ্য, ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো রোগ, গর্ভাবস্থা বা ওষুধ চললে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।