শব্দকোষ
স্বাস্থ্যের সহজ শব্দকোষ
ক্যালরি, প্রোটিন, BMI, TDEE: যে শব্দগুলো কঠিন লাগে, তার সহজ মানে এক জায়গায়।
- ক্যালরি Calorie (kcal)
- খাবার থেকে পাওয়া শক্তির মাপ। আমরা যা খাই তা থেকে শরীর শক্তি পায়।
- প্রোটিন Protein
- পেশি, ত্বক ও শরীর মেরামতের জন্য দরকারি পুষ্টি। ডিম, ডাল, মাছ, মাংস, দুধে থাকে।
- কার্বোহাইড্রেট (কার্ব) Carbohydrate (carbs)
- শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। ভাত, রুটি, আলু, ফলে থাকে।
- ফ্যাট Fat
- শক্তি দেয় ও কিছু ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে। প্রতি গ্রামে ৯ ক্যালরি, যা সবচেয়ে বেশি।
- আঁশ (ফাইবার) Fibre
- হজমে সাহায্য করে ও পেট ভরা রাখে। শাক, ডাল, ফল, লাল আটায় থাকে।
- ভিটামিন Vitamin
- অল্প পরিমাণে দরকারি পুষ্টি উপাদান, যা শরীর নিজে যথেষ্ট বানাতে পারে না।
- খনিজ (মিনারেল) Mineral
- আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্কের মতো উপাদান, যা হাড়, রক্ত ও শরীরের কাজে লাগে।
- ম্যাক্রো Macros (macronutrients)
- কার্ব, প্রোটিন ও ফ্যাট, এই তিনটিকে একসাথে ম্যাক্রো বলে।
- মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট Micronutrients
- ভিটামিন ও খনিজ, অল্প পরিমাণে লাগে।
- BMI BMI (Body Mass Index)
- ওজন ও উচ্চতা থেকে বের করা একটি মোটামুটি সংখ্যা। এটি পেশি-চর্বি আলাদা করে না, তাই শুধু ধারণা দেয়।
- BMR BMR (Basal Metabolic Rate)
- পুরো দিন শুয়ে থাকলেও শরীর যে ক্যালরি খরচ করে।
- TDEE TDEE (Total Daily Energy Expenditure)
- কাজকর্ম ধরে সারাদিনে মোট কত ক্যালরি পুড়ে, তার মোটামুটি হিসাব।
- ক্যালরি ঘাটতি Calorie deficit
- যতটা ক্যালরি পোড়ে তার চেয়ে কম খাওয়া। ওজন কমার মূল ভিত্তি।
- মেটাবলিজম Metabolism
- খাবারকে শক্তিতে বদলানোর শরীরের সব রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
- MET MET
- ব্যায়ামের তীব্রতার মাপ। বিশ্রামে ১, দ্রুত হাঁটায় প্রায় ৪-৫।
- গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) Glycemic index (GI)
- কোন খাবার কত দ্রুত রক্তে চিনি বাড়ায় তার সূচক।
- অ্যাডেড সুগার Added sugar
- খাবারে আলাদা করে যোগ করা চিনি, যেমন চা-শরবত-মিষ্টিতে। ফল-দুধের প্রাকৃতিক চিনি এর মধ্যে ধরা হয় না।
- ফ্রি সুগার Free sugars
- WHO-র ভাষায় যোগ করা চিনি, মধু, সিরাপ ও ফলের রসের চিনি। বড়দের জন্য দৈনিক ক্যালরির ১০ শতাংশের কম রাখার পরামর্শ।
- সোডিয়াম Sodium
- লবণের একটি উপাদান। বেশি খেলে রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
- কোলেস্টেরল Cholesterol
- রক্তে থাকা এক ধরনের চর্বি। মাত্রা নিয়ে সমস্যা থাকলে ডাক্তার পরামর্শ দেন।
- সম্পৃক্ত ফ্যাট Saturated fat
- ঘি, মাখন, লাল মাংসের চর্বি, নারকেল তেলে থাকে। কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- ওমেগা-৩ Omega-3
- এক ধরনের ভালো ফ্যাট। তেলযুক্ত মাছ, আখরোট, তিসির বীজে থাকে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট Antioxidant
- রঙিন ফল-সবজিতে থাকা উপাদান, যা কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
- প্রোবায়োটিক Probiotic
- উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা দই-ঘোলের মতো খাবারে থাকে।
- ইলেক্ট্রোলাইট Electrolytes
- সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি, যা শরীরের পানির ভারসাম্যে ভূমিকা রাখে।
- ওআরএস ORS (oral rehydration solution)
- ডায়রিয়া বা বমিতে শরীরের পানি ও লবণ ফেরাতে খাওয়া বিশেষ দ্রবণ।
- পানিশূন্যতা Dehydration
- শরীরে পানি কম পড়লে যা হয়। গাঢ় প্রস্রাব, শুকনো মুখ এর লক্ষণ হতে পারে।
- ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং Intermittent fasting
- ঠিক করা সময়ের মধ্যে খাওয়া, বাকি সময় না খাওয়া। সবার জন্য নয়।
- মিল প্রেপ Meal prep
- আগে থেকে বেশি রান্না বা কাজ গুছিয়ে রাখা, যাতে সারা সপ্তাহ সহজ হয়।
- পোর্শন সাইজ Portion size
- এক বসায় আপনি কতটা খাবার নেন।
- সার্ভিং Serving
- লেবেলে দেওয়া ঠিক করা পরিমাণ। এটি আপনার পোর্শনের সমান নাও হতে পারে।
- প্যাকেটজাত খাবার Processed food
- কারখানায় বা রান্নায় পরিবর্তিত খাবার। বেশি প্যাকেটজাত খাবারে চিনি-লবণ-তেল বেশি থাকে।
- ফোর্টিফায়েড Fortified
- যে খাবারে বাড়তি ভিটামিন বা খনিজ যোগ করা হয়েছে, যেমন আয়োডিনযুক্ত লবণ।
- সাপ্লিমেন্ট Supplement
- ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটে ভিটামিন-খনিজ। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শুরু না করাই ভালো।
- স্ট্রেচিং Stretching
- পেশি টেনে নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম।
- কার্ডিও Cardio
- হার্ট ও ফুসফুসকে কাজে লাগানো ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, দৌড়, সাইকেল।
- স্ট্রেংথ ট্রেনিং Strength training
- পেশি শক্ত করার ব্যায়াম, যেমন স্কোয়াট, পুশ-আপ।
- প্ল্যাঙ্ক Plank
- পেটের পেশির জন্য ব্যায়াম, কনুই ও পায়ের পাতায় ভর দিয়ে শরীর সোজা রাখা।
- ওয়ার্ম-আপ Warm-up
- ব্যায়ামের আগে হালকা নড়াচড়া, যাতে শরীর তৈরি হয়।
- কুল-ডাউন Cool-down
- ব্যায়ামের পরে ধীরে হাঁটা ও স্ট্রেচিং।
- সার্কাডিয়ান রিদম Circadian rhythm
- শরীরের ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি, যা ঘুম-জাগা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি Sleep hygiene
- ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত সময়, অন্ধকার ঘর, স্ক্রিন কম, ইত্যাদি অভ্যাস।
- ক্যাফেইন Caffeine
- চা, কফি, কোলায় থাকা উদ্দীপক। সুস্থ বড়দের জন্য দিনে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়।
- অ্যাসিডিটি Acidity
- বুক বা পেটের উপরের অংশে জ্বালা, টক ঢেকুর। বারবার হলে ডাক্তার দেখান।
- ডায়াবেটিস Diabetes
- রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার রোগ। ডাক্তারের তত্ত্বাবধান দরকার।
- উচ্চ রক্তচাপ High blood pressure
- রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকা। লবণ কমানো, নড়াচড়া ও চিকিৎসা সাহায্য করে।
- BMI-র সীমা (WHO) BMI categories (WHO)
- বড়দের জন্য সাধারণ ভাগ: ১৮.৫ এর নিচে কম ওজন, ১৮.৫-২৪.৯ স্বাভাবিক, ২৫ থেকে বেশি ওজন। এশিয়ানদের জন্য কিছু দেশে সীমা আলাদা।
কিছু পাওয়া যায়নি।
রোজ একটা স্বাস্থ্য টিপ, বিনামূল্যে
ইমেইলে ছোট টিপ আর নতুন টুলের খবর পাবেন। কোনো স্প্যাম নয়।
এটা সুস্থ বড়দের জন্য সাধারণ তথ্য, ডাক্তারের পরামর্শের বদলে নয়। কোনো রোগ, গর্ভাবস্থা বা ওষুধ চললে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
এই টুলটা নিয়ে দুটো কথা
🎯
এখানে কী পাবেন
স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কঠিন শব্দের সহজ মানে।
⚙️
হিসাবটা কীভাবে হয়
শব্দ খুঁজুন বা তালিকা ঘেঁটে দেখুন। প্রতিটির ব্যাখ্যা ছোট ও সরল।
💡
একটু খেয়াল রাখবেন
- এটি জানার জন্য, রোগ নির্ণয় নয়।
- ফলাফল বা রিপোর্ট বুঝতে ডাক্তারের সাহায্য নিন।
🔬গবেষণা কী বলে
- খাবারের লেবেলে "ক্যালরি" বলতে সাধারণত কিলোক্যালরি (kcal) বোঝায়।
- WHO-র ফ্রি সুগারের সংজ্ঞায় মধু, সিরাপ ও ফলের রসের চিনিও পড়ে, শুধু টেবিল সুগার নয়।
🧪যা শুনি, আসলে কী
ভুল ধারণা প্রাকৃতিক চিনি (মধু, গুড়) সবসময় নিরাপদ।
সত্যি এগুলোও ফ্রি সুগার হিসেবে ধরা হয়। পরিমাণ সীমিত রাখুন।
📚কোথা থেকে নেওয়া
WHO — Sugars intake guidelineNIH — MedlinePlusDietary Guidelines for Americans
নামগুলো যাচাই করার জন্য দেওয়া। সংখ্যাগুলো সাধারণ ও মোটামুটি হিসাব, দেশ ও বছরভেদে বদলাতে পারে। এটি জানার জন্য তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়।